Namecheap.com
Published On: Sun, Jun 24th, 2018

সিগারেটে সুখ টান? প্রতি ৬ সেকেন্ডে কাড়ছে একটি প্রাণ

বিশ্বজুড়ে যখন পালিত তামাক বিরোধী দিবস, তখনই মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গিয়েছে ৮ হাজার ৬৪০ জনের। আগামী ২৪ঘণ্টাতেই তাঁরা চিরনিদ্রায় চলে যাবেন। তাঁরা প্রত্যেকেই তামাকজাত দ্রব্যের নেশার জেরে ক্যান্সার আক্রান্ত। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই মৃত্যু হতে চলেছে ২৩৭ জনের। ভারতে সংখ্যাটা ৩ হাজার ২৮৮। হ্যাঁ, বিশ্ব তামাকবিরোধী দিবসে এটাই কঠিন বাস্তব। তামাক সেবন বন্ধ করতে সম্প্রতি একটি কর্মসূচি নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO, কর্মসূচির নাম ‘Tobacco–a threat to Development’। তামাক সেবনের জেরে যাতে আগামী প্রজন্ম আক্রান্ত না হয়, তার জন্য আজ তামাম দুনিয়া হাতেহাত মেলাবে। আজকের দিনে আমরাও কি পারি না ধূমপানকে চিরবিদায় জানাতে? যাতে আগামী দিনগুলিতে মৃত্যু পরোয়ানার পরিসংখ্যানটা কমে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, একটি সিগারেট ১১ মিনিট করে জীবন কমিয়ে দেয়। একটি পুরো প্যাকেট সিগারেট শেষ করে দেয় জীবনের অমূল্য ৪০টা মিনিট। আমাদের দেশে প্রতি ঘণ্টায় তামাক সেবনের জেরে মৃত্যু হয় ১৩৭ জনের। আর বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হয়। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সার্ভে -র ২০১০-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের রাজ্যে মোট জনসংখ্যার ৩৬.৩ শতাংশ বা ২.৪৭ কোটি মানুষ যে কোনও ভাবে তামাক সেবন করেন। কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতি বছর তামাক সেবনজনীত রোগে আক্রান্ত হন। দেশজুড়ে ৮৫ শতাংশ পুরুষ ও ২০ শতাংশ মহিলা যে কোনও ভাবে তামাক সেবন করেন। পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম ও শহরেও। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, ১০ শতাংশ মহিলা স্বীকার করেছেন তাঁরা সিগারেট খান। WHO-র রিপোর্ট বলছে, মহিলাদের মধ্যে তামাক সেবন ব্যাপক হারে বাড়ছে। একই সঙ্গে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেও। ২০১০ সালে যখন এই সার্ভে হয়, তখন দেখা যায়, ৩৫ শতাংশ মানুষ যে কোনও ভাবে তামাক সেবন করেন। আজ ৬ বছর পরে নিশ্চয়ই পরিসংখ্যানটা আরও বেড়েছে। তাত্‍‌পর্যপূর্ণ ভাবে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে এ বছর ভারতের উপর সমীক্ষা চালাচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৫০ শতাংশ কমবয়সি ধূমপায়ী তামাকজনীত রোগে আক্রান্ত। ধূমপায়ীদের আয়ু, যাঁরা ধূমপান করে না, তাদের চেয়ে গড়ে ২২ থেকে ২৬ শতাংশ কম হয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন ৪৩৮ জন করে নতুন তামাক সেবনকারী বাড়ছে। তামাক ধরার গড় বয়স দেখা যাচ্ছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৭ বছর ও মহিলাদের ১৪ বছর। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রতি বছর সাড়ে ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনীত রোগে আক্রান্ত হয়ে। যার খেসারত দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবার। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সার্ভে-র রিপোর্ট বলছে, ভারতে অকাল মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ তামাক। বিশ্বে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় তামাক সেবনের ফলে। ৫৫ লক্ষের মৃত্যু হয় তামাক সেবনের জেরে। এর মধ্যে এক পঞ্চমাংশ মৃত্যু হয় ভারতেই। WHO-র সার্ভে বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে তামাক সেবনকারী মানুষের সংখ্যা হবে ২২০ কোটি। তামাকজাত পণ্য বিক্রি কমানোর জন্য WHO ১৭৮টি দেশকে বেছেছে ২০১৪ সালে। সেই দেশগুলির সরকারের কাছে সংস্থা জানিয়েছে, তামাকজাত পণ্যের উপর কর বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি কমানো হোক। হাওড়ার নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিত্‍‌সক সৌরভ দত্তের কথায়, ‘যুব সম্প্রদায়কে তামাক সেবনে আকৃষ্ট করতে, তামাকজাত পণ্য ব্যবসায়ীরা রোজ নিত্যনতুন উপায় বের করছে। তারা এমন সব উপায় বের করছে, যাতে যুব সম্প্রদায়ের কাছে তামাক সেবন করাটা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বার্তা দেয়। এটা মনে রাখতে হবে, তামাক কিন্তু মুখ, গলা, লিভার ও ফুসফুসে ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।’ সম্বন্ধ হেল্থ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সঞ্জয় শেঠ রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সরকার সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য আইন (COTPA) কার্যকর করুক, যাতে কিশোর ও যুবকদের নাগালের বাইরে থাকে তামাকজাত পণ্য। বিশ্বব্যাঙ্কের প্রস্তাব, উন্নয়নশীল দেশে তামাকজাত পণ্যের উপর ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ কর বসানো হোক।

Read also:

যারা সকাল বেলায় লেবুজল পান করেন, জেনে নিন তার ফলাফল কতটা মারাত্মক হতে পারে…

লেবুজল পান করেন- অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা লেবুজল পান করার সময় চোখ মুখ কুঁচকে এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে থাকি। যদিও আমরা প্রায় সকলেই বিশ্বাস করি সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ভালো।লেবুর রস গরম জলের সাথে মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সকালে এক গ্লাস খেলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়তা করে ।কোন সন্দেহ নেই এটি একটি অবাক করা পদ্ধতি যা সাম্প্রতিক আবিস্কৃত হয়েছে। এই পদ্ধতির গুণাবলীও বহুবিধ কিন্তু এই মিশ্রণ প্রস্তুতিকরনের ক্ষেত্রে একটি ভুল পন্থা অবলম্বন করা হয়ে থাকে।আপনিও সাবধান হোন, পরের বার এই মিশ্রণ তৈরির ক্ষেত্রে যাতে কোন ভুলচুক না হয়।সঠিক মিশ্রণ সেবন করুন ও উপকার পান ।সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু জল পান করা আমাদের শরীরের বহুবিধ উপকার সাধনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে সহায়তা করে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের মেদ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই পানীয়টি ঠান্ডা লাগা, জ্বর ও সর্দি কাশির হাত থেকেও আমাদের প্রতিরোধ করে।এই লেবুর জুস আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ভিটামিনের জোগান দেয় এবং এর ফলে আমাদের স্বাস্থের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে ।তাই তো আমরা বলি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবু জল পান করুন কিন্তু তা তৈরি করার পদ্ধতি যেন সঠিক হয় ।ছবিতে দেখানো লেবু জল প্রস্তুতের পদ্ধতিটি ভুল আছে কারন এর মধ্যে লেমন পিল ব্যবহার করা হয়নি ।লেবুর টুকরো বা পিল পুরো ফলের সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশ তাই এটি ব্যবহার করুন।লেবুটিকে পিস পিস করে কাটুন এরপর সেগুলির রস বের করে জলের সাথে মিশিয়ে নিন, এছাড়াও রস বেরোনোর পরে লেবুর একটি থকথকে অংশ থাকে সেটিকেও লেবুর জলের সাথে মিশিয়ে দিন। মিশ্রণের জল যেন গরম হয়। এরপর ওই মিশ্রণ সেবন করুন ।তাই বলি সঠিক পদ্ধতিতে এই পানীয়টি প্রস্তুত করুন এবং তার উপকারিতা পান ॥