Published On: Thu, Sep 7th, 2017

সু চির নোবেল কেড়ে নেয়ার পিটিশন, আপনি ভোট দিয়েছেন কি?

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। অনলাইনে এ পিটিশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তিতে পাওয়া সু চির নোবেল বাতিল করতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

চেঞ্জ ডট ওআরজিতে এই পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের দাবি, ১৯৯১ সালে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি শান্তিতে যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তা নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ‘জব্দ’ করবেন অথবা ‘ফেরত নেবেন’।

জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা চলমান সহিংসতায় নীরব থাকায় পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন সু চি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই পিটিশন; বিশেষ করে টুইটারে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম নিপীড়নের ঘটনায় সু চির নীরবতার প্রতিবাদে এই পিটিশনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৭ জন স্বাক্ষর করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপেও অনেকেই শেয়ার করছেন পিটিশনে স্বাক্ষরের লিঙ্ক। পিটিশনে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে সু চির নোবেল জব্ত অথবা ফেরত নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কারের অর্থ হিসেবে তিনি যে ৬০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পেয়েছেন তাও ফেরত নেয়ার দাবি উঠেছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমার। ওই দিন রাখাইনে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনাঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা চালায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ কয়েক ডজন রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটে।

রোহিঙ্গা বিতাড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক; বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিশ্ব নেতাদেরকে ১১ লাখ রোহিঙ্গার সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গারা গণহত্যার মুখে রয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাস রাখাইনে জাতিগত নিধনের ঝুঁকি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।

 

Read also:

 

রোহিঙ্গা নিধন ঠেকাতে সার্কের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিধন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মহলকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি ইফতিখার আলি মালিক। রোহিঙ্গাদের ওপর সাম্প্রতিক নিপীড়নের প্রতিবাদে বুধবার এ আহ্বান জানান তিনি।

রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের হয়রানি, নির্যাতনসহ হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে বুধবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ইফতিখার আলি মালিক মিয়ানমারের তীব্র নিন্দা জানান।

সেখানে বিচার বহির্ভূতভাবে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, পুড়িয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। প্রাণের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে তাদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

বিনা কারণে নিরস্ত্র এসব মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা বর্বোরোচিত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। জঘন্য এই অপরাধের সম্পূর্ণ দায়ভার মিয়ানমার সরকারের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইফতিখার আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই নিতে হবে। ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যাপারেও মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে আন্তর্জাতিক মহলকে।

মুসলিম বিশ্বের নেতারা বিশেষ করে সৌদি আরব, পাকিস্তান, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জাতিসংঘকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন রাখা উচিত।

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমানা একেবারে খুলে দেয়ারও কথা বলেন তিনি। যাতে করে সহিংসতার শিকার মানুষজন অন্তত বাংলাদেশে প্রবেশ করে জীবন বাঁচাতে পারে।

Displaying 9 Comments
Have Your Say
  1. Md.Yousuf says:

    আমি সুচির নোবেল কেরে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিচ্ছি ।

  2. Sk apon says:

    আমরা চাই এই মানবতা বিরোধী অং সাং সূচীর নোবেল পেরত নেয়া হোক।।

    সাতে এই জগন্য নেত্রীর আন্তর্জাতিক আদালতে নির্বিচারে গন হত্যার বিচার হোক।।

    তাকে ফাসিতে ঝুলিয়ে মৃত্তু দন্ড েদওয়া হোক।।

    যেন বিশ্বের মান িচত্রে আর কখনো এমন অমানবিক গটনা ও নির্বিচারে গন হত্যা না হয়।।

  3. Jabed Hasan says:

    সুচির নবেল পত্তাহার করা হোক । সে একজন মানবতাবিরোধী ।

  4. I hope Nobel committee will snatch away her nobel prize.. If I could spilt over her face!

  5. Reaz says:

    Novel prize should return back

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

[X]