ফুসফুস ক্যান্সারের এই প্রাথমিক লক্ষণেই সতর্ক হতে হবে

স্বাস্থ্য

ধরুন আপনি জগিংয়ে বের হলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আপনার দম শেষ হয়ে গেল এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেল। পরিস্থিতি আরো ভয়ানকও হতে পারে। সামান্য শারীরিক তৎপরতাতেও যদি আপনার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফুসফুস আশানুরুপ স্বাস্থ্যবান নয়। এমনকি তা হতে পারে ফুসফুস ক্যান্সারেরও লক্ষণ। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণগুলো বোঝা যায় না। রোগ অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পর লক্ষণগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। অনেকের ক্ষেত্রে পর্যায়-৩ এ চলে যাওয়ার পর হয়তো ধরা পড়ে। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ফুসফুসের ক্যান্সার সবচেয়ে মারাত্মক ক্যান্সারগুলোর অন্যতম একটি। প্রাথমিক স্তরেই যদি এই ক্যান্সার সনাক্ত করা না যায় তাহলে কিন্তু মৃত্যু অবধারিত। সুতরাং আসুন জেনে নেওয়া ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে যেগুলো দেখা দেওয়া মাত্রই সতর্ক হতে হবে।

শ্বাসকষ্ট: অতিরিক্ত ভারী কোনোকিছু অথবা শরীরের অত্যধিক ওজন নিয়ে সিঁড়ি আরোহনের পর ভারী শ্বাসকার্য স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি স্বাভাবিক কাজকর্ম অথবা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে না এমন হালকা কাজ কাজ করার পরও আপনার শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে চিকিৎসক দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে- কারণ এটি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ফুসফুসে বিকশিত কিছু ক্যানসার পাঁজর খাঁচার ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। টিউমার প্রচুর তরল নির্গত করে যা চারপাশে ধাক্কা খায় এবং কোনো রোগীর শ্বাসকার্যের ক্ষমতাকে বিঘ্নিত করে। ক্রমাগত কাশি: এলার্জি, ঠাণ্ডা-সর্দি, ফ্লু-র মতো সাধারণ কিছু রোগের লক্ষণ হতে পারে কাশি। ফলে লোকে হয়তো কাশি হলে খুব একটা চিন্তিত নাও হতে পারেন। কিন্তু আপনার যদি দুই মাসের বেশি কাশি হয় এবং ওষুধ খাওয়ার পরও তা ভালো না হয় তাহলে তা ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ।

মরিচা রঙের কফ: কফের রঙ যদি মরিচা বা লালাভ হয় তাহলে বুঝতে হবে কফের সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে। এটিও ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক একটি লক্ষণ।কফ, যেটা যাচ্ছে না: কফ যদি দীর্ঘদিন থাকে তবে সতর্ক হোন। যদি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে কফ এক-দুই সপ্তাহের বেশি থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটা ফুসফুস ক্যানসারের কারণ হতে পারে।কফে পরিবর্তন: আমরা ইতোমধ্যে জানি, যে কাশি চলে যায় না তা ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ। কিন্তু কাশিতে কোনো ধরনের পরিবর্তনও ফুসফুস ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি আপনি ধূমপায়ী হোন, তবে দীর্ঘস্থায়ী কফে কিছু পরিবর্তন দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন। যেমন : কাশি কর্কশ শোনালে, গম্ভীর শব্দ হলে, কফের সাথে বেশি শ্লেষ্মা ও রক্ত গেলে-এই লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। অন্য একটি সতর্কীকরণ লক্ষণ হচ্ছে: বুকের এক পাশে ব্যথা (যাকে ইউনিলেটার‍্যাল চেস্ট পেইন বলে) যা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বুকব্যথার বিপরীত।বুকে ব্যথা: পিঠে, বুকে এবং কাধে ব্যথা ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে; যা কফের সাথে সম্পর্কযুক্ত। গ্যাস্ট্রিসাইটিস, অবসাদ, রক্তশুন্যতা, স্ট্রেস সহ নানা কারণে বুকে ব্যথা করতে পারে। নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় যদি তীব্র ব্যথা হয় অথবা হাসি বা কাশির দেওয়ার সময় বুকে ব্যথা হয় তাহলে তা হতে পারে ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক একটি লক্ষণ। অস্বাভাবিক কফ ও ব্যথা লক্ষ করলে হেলাফেলা করবেন না।

অনবরত অবসাদ বা ক্লান্তি: ব্যস্ত জীবনের কারণে ক্লান্ত ও দুর্বল অনুভূতি হতে পারে। এছাড়া পুষ্টির ঘাটতি, স্ট্রেস থেকেও অবসাদ দেখা দিতে পারে। কিন্তু ক্রমাগত অবসাদ, যা দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রতিদিনের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় তা হতে পারে ফুসফুস বা অন্য কোনো ক্যান্সারের লক্ষণ।গলার স্বরের পরিবর্তন: অনেক কারণে আপনার গলা বা কণ্ঠস্বর কর্কশ হতে পারে, যেমন- ইনফেকশন অথবা কোনো খেলা চলাকালীন অত্যধিক চিল্লাচিল্লি করা কিংবা ফুসফুস ক্যানসার।  কণ্ঠস্বর কর্কশ বা ফেঁসফেঁসে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান।  স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার সময়ও যদি গলার স্বর কর্কশ বা ফেঁসফেঁসে শোনায় তাহলে তা হতে পারে ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ। এই লক্ষণ সাধারণত কাশি বা কফের সময় হয়। ফুসফুসে ক্যান্সার কোষ জন্ম নেওয়ার পর তা শ্বসন প্রক্রিয়ার অন্যান্য অংশ সহ ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রীকে আক্রমণ করে। ফুসফুসের টিউমার কণ্ঠস্বরের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেললে এই সমস্যা হয়। ফলে গলার স্বর বদলে যায়। তবে যদি আপনার কর্কশ কণ্ঠস্বর এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ পরও চলে না যায়, তাহলে এটি কোনো কান, নাক ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত।

শ্বাসে ছোট হওয়া: শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হওয়া ফুসফুসে ক্যানসারের একটি লক্ষণ। এটা শ্বাসপথ বন্ধ হওয়া এবং শ্বাসের পথ সরু হওয়ার কারণে হতে পারে। তাই এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ: আপনার যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত কাশি, ঠাণ্ডা, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া হয় এবং ওষুধ খাওয়ার পরও ভালো না হয় তাহলে তা ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। ফুসফুস ক্যান্সার শ্বাস গ্রহণ প্রক্রিয়াক দুর্বল করে দেয় যার ফলে এই ধরনের সংক্রমণ হয়।স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: মস্তিষ্কের কিছু অংশের সঙ্গে ফুসফুসের সংযোগ রয়েছে। মস্তিষ্কের শিরা-উপশিরাগুলোর মাধ্যমে ও সংযোগ স্থাপিত হয়। ফলে ফুসফুস ক্যান্সার হলে মস্তিষ্কেও প্রভাব পড়ে। বসা থেকে উঠতে গিয়ে যদি সমস্যা হওয়া, কাঁধের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি ফুসফুস ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত।

গাইনেকোমেস্টিয়া: পুরুষদের স্তনে অতিরিক্ত টিস্যু জন্মানো এবং প্রায় নারীদের মতো বড় স্তনের আকার ধারন করার নাম গাইনেকোমেস্টিয়া। হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা এবং বংশসূত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। তথাপি এটি ফুসফুস ক্যান্সারের একপি প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। ফুসফুস স্তনের টিস্যুগুলোর কাছাকাছি জায়গায় থাকার ফলে স্তনের টিস্যুগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আর পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণটি বেশি স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়।চোখের পাতার দুর্বলতা: ফুসফুসের একেবারে ওপরের অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে চোখের পাতা দুর্বল হয়ে আসে। কেননা ফুসফুসের ওই অংশের স্নায়ুগুলো চোখের পাতার স্নায়ুগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে চোখের পাতা দুর্বল হওয়াও ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক একটি লক্ষণ।হঠাৎ ওজন কমে গেলে: অন্য ক্যানসারের মতো এই ক্যানসারেও হঠাৎ করে ওজন কমে যায়। যদি অস্বাভাবিকভাবে আপনার ১০ পাউন্ডের বেশি ওজন কমে যায় তাহলে সতর্ক হোন। কোনো প্রচেষ্টা ব্যতীত তিন মাসের মধ্যে দশ বা তার বেশি পাউন্ড ওজন কমে যাওয়া অনেক ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে, যেমন- ফুসফুস ক্যানসার। ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে অথবা টিউমার শরীরের বিপাককে ব্যাহত করে।মাথাব্যথা: ফুসফুসের ক্যানসার কখনো কখনো মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাথা ব্যথা তৈরি করে। তবে অন্যান্য কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে। যাই হোক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অত্যধিক তৃষ্ণা ও ঘনঘন মূত্রত্যাগ: বিরল ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যানসারের টিউমার এমন পদার্থ সৃষ্টি করে যা রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ায় এবং এটি আপনাকে অত্যধিক তৃষ্ণা অনুভব করাবে এবং আপনি ঘনঘন মূত্রত্যাগ করবেন। যদি আপনি তৃষ্ণা অনুভবের কারণে সচরাচরের তুলনায় বেশি পানি পান করেন, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন- কারণ এটি ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।গাল ও ঘাড়ে ফোলা: ফুসফুসের টিউমার হরমোন নিঃসরণ করে যা বিরলক্ষেত্রে রোগীদের এমন আকৃতির করে যে মনে হবে তারা যেন স্টেরয়েড গ্রহণ করেছেন। লক্ষণের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি, পিঠের শীর্ষে চর্বি জমা এবং মুখমণ্ডলের ফোলা (যাকে মুন ফেস বলে)। যদি আপনি এসব টিউমার অপসারণ করতে সক্ষম হন, তাহলে এসব উপসর্গ চলে যাবে।কথা বলতে সমস্যা: যখন টিউমার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়বে, রোগীদের খিঁচুনি ও কথা বলতে সমস্যা হবে।  এই পথে কিছু রোগীর ফুসফুস ক্যানসার নির্ণীত হয়। তাদের ক্ষেত্রে নিউরোলজিক উপসর্গ প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত এই ক্যানসার শনাক্ত করা যায় না।ডিজিটাল ক্লাবিং: ফুসফুস ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে ডিজিটাল ক্লাবিং যেখানে রোগীর ফিঙ্গারটিপ বেড়ে যায় এবং যেখান থেকে নখের উত্থান হয়েছে সেখানে অ্যাঙ্গেলের পরিবর্তন হয়।  কিছু রোগীর নখ বেঁকে যায়। কিন্তু এটি বিরল।

চিকিৎসা: ধূমপান, বয়স এবং এক্স-রে প্লেটে যে উপাদান পাওয়া যায়, তাতে বোঝা যায় রোগী যক্ষ্মা না-কি ক্যান্সারে
আক্রান্ত। ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সারভাইভাল রেট ৫ বছরের কম। এর কারণ হলো, রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসে, তখন অনেক ধাপ পার হয়ে যায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে সারভাইভাল রেট ভালো হয়। শুরুতে শনাক্ত করা গেলে ক্যান্সারের জীবাণু অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়া হয়। এর পরে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি দিয়ে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে বেশি দেরি হলে অস্ত্রোপচারের অবস্থা থাকে না। হয়তো তখন অন্যান্য অঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। তখন রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দিতে হয়। এমন একটি পর্যায় আসে, যখন ফুসফুসে প্রচ ব্যথা শুরু হয়। তখন রেডিওথেরাপি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ফুসফুসের ক্যান্সারের কিছু ভাগ আছে, যেমন রেডিওসেনসিটিভ। রেডিওথেরাপি দিলে খুব ভালো কাজ করবে। আবার রেডিওথেরাপি দিলেও ভালো কাজ করছে না, এমনও হতে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সার হলেই যে থেরাপি দিতে হবে, তা নয়। অবস্থা বুঝে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাই ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন।

ফুসফুস ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনথেরাপি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী- বর্তমান বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তবে চিকিৎসায় অগ্রগতি হয়েছে অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্যান্সার বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র। ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় তারা যুগান্তকারী সাফল্য লাভ করেছে বলে সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন। গবেষকদের দাবি, ইমিউনথেরাপির মাধ্যমে ফুসফুস ক্যান্সারের সেলকে ধ্বংস করা সম্ভব; যা ক্যান্সার সেলের বিস্তার রোধে সাহায্য করবে। নতুন আবিস্কৃত এ ইমিউনথেরাপি ব্যবহার করা হলে রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ইমিউনথেরাপি রোগীর দেহে একদিকে যেমন ক্যান্সারের সেলটিকে ধ্বংস করতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে এটি কেমোথেরাপির ভয়াবহতা থেকেও রোগীকে রক্ষা করবে।

হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রাপ্ত ফল ফুসফুস ক্যান্সারের চিকিৎসায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষণায় প্রাপ্ত এ ফলকে ‘অত্যন্ত চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করেন আমেরিকার ইয়েল ক্যান্সার সেন্টারের গবেষক ড. রে হার্বস্ট। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হলে সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ইমিউনথেরাপি প্রাথমিকভাবে ২০ রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হয়। এক বছর পর দেখা গেছে, ১৬ রোগীর শরীরে এটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। গবেষকরা তাই ইমিউনথেরাপি আবিস্কারকে ফুসফুস ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অর্জন বলেই মনে করছেন।এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন যেটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগীর শরীরে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্ণয় করতে পারবে। ‘ক্যান্সার-সিক’ নামে এ পরীক্ষাটি মূলত শরীরে জিন ও প্রোটিনের পরিবর্তন চিহ্নিতকরণে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফুসফুস ভালো রাখার ৭ খাবার স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বায়ুদূষণ। দেখা দিচ্ছে নানা জটিল রোগ। সমস্যা দেখা দিচ্ছে ফুসফুসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম টমেটো। এতে থাকা লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা–স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া কমলা, পেয়ারা, আঙুর, লেবুর মতো ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খেতে হবে। এসব ফল ফুসফুস ভালো রাখে। ফুসফুস ভালো রাখতে পারে—এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জেনে নিন:আমলকি: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আমলকি খেলে যকৃতের ধূলিকণার সব ক্ষতি ঠেকানো যায়। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও আমলকির জুসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তা। টমেটো: শরীরকে রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তোলে টমেটো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় টমেটোর এসব কার্যক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, টমেটোতে আছে দারুণ অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ প্রভার, যা কোষকে বুড়ো হতে দেয় না। এ ছাড়া নানা রকম ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে টমেটো। টমেটোর লাইকোপেন শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা–স্তর হিসেবে কাজ করে। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণার প্রভাব হিসেবে কাজ করে লাইকোপেন।

হলুদ: হলুদ পরিচিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। দূষিত কণার প্রভাব থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষা দিতে কাজ করে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কফ ও অ্যাজমার সমস্যা সমাধানে হলুদ ও ঘিয়ের মিশ্রণ কাজে লাগে। এ ছাড়া হলুদ, গুড় ও মাখনের মিশ্রণ অ্যাজমা দূর করতে পারে। তুলসী: বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে ফুসফুসকে রক্ষা করতে পারে তুলসীপাতা। এ ছাড়া বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসীগাছ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প করে তুলসীপাতার রস খেলে শরীরের শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর হয়। লেবুজাতীয় ফল: কমলা ও লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। লেবুজাতীয় ফল নিয়মিত খেলে ফুসফুসে বায়ুর ক্ষতিকর উপাদানগুলোর প্রভাব পড়তে পারে না। গুড়: অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিসের মতো অনেক শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় কার্যকর হতে পারে গুড়। তিলের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কম। সবুজ চা: প্রতিদিন দুই কাপ করে গ্রিন টি বা সবুজ চা খেতে পারেন। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে সবুজ চায়ের সঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।ফুসফুস ভালো রাখার ব্যায়াম নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসকে সুস্থ রাখে। বিশেষত হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রংকাইটিসের রোগীদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উপকারী। এ ছাড়া এতে শিথিলায়ন হয় বা মানসিক চাপ কমে। এ রকম কয়েকটি ব্যায়াম সম্পর্কে জেনে নিন:

৪-৭-৮ রিলাক্সিং ব্রিদিং পিঠ সোজা রেখে আরাম করে বসুন। ‘হুস’ আওয়াজ করে মুখ দিয়ে ফুসফুসের সবটুকু বাতাস বের করে দিন। এবার চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে নাক দিয়ে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনতে গুনতে গভীর শ্বাস নিন। সেটা ভেতরে আটকে রাখুন, মনে মনে ৭ পর্যন্ত গুনুন। এবার ঠোঁট গোল করে আবার ‘হুস’ করে পুরোটা বাতাস বের করে দিন ৮ পর্যন্ত গুনতে গুনতে। কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে পর পর চারবার এভাবে শ্বাস নিন। এই ব্যায়াম দিনে দুবার করা ভালো। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক চাপ কমে। ঘুমও ভালো হয়।শ্বাস গোনার ব্যায়াম এই ব্যায়ামে ক্রমান্বয়ে প্রশ্বাসের সময় ধীর করে আনতে হয়। মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। চোখ বন্ধ করে পর পর কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে। প্রথমে প্রশ্বাস ছাড়ার সময় এক গুনবেন, তার পরের বার দুই, এভাবে পাঁচ পর্যন্ত। তারপর আবার নতুন করে এক দিয়ে শুরু করুন। এই ব্যায়ামটি দিনে ১০ মিনিট করবেন। এটি এক ধরনের মেডিটেশন বা ধ্যান। এটি মস্তিষ্ককে সজাগ করে ও মনঃসংযোগ বাড়ায়। মানসিক চাপ কমায়।বেলো ব্রিদিং মুখ বন্ধ করে চটপট নাক দিয়ে ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম এটি। প্রতি সেকেন্ডে তিনবার শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার চেষ্টা করুন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময়টি সমান থাকবে। এতে বুকের ও বক্ষচ্ছদার মাংসপেশির দ্রুত ব্যায়াম হবে। তারপর কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ১৫ সেকেন্ডের বেশি নয়। এটি যোগব্যায়ামের একটি কৌশল। এতে ক্লান্তি ঝরে যায় এবং কর্মস্পৃহা ও উদ্যম বাড়ে।[২]

[১] ডিএইচডি

[২] ডা. মো. আজিজুর রহমান বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *