স্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওটি ডা. আকাশ নিজেই ধারণ করেছিলেন! দেখুন (ভিডিও)

অপরাধ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নিজের বিরুদ্ধে উঠা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ তিনি একজনের জেরার মুখে স্বীকার করে নিয়েছেন।ওই ভিডিওতে অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকা মিতুর মুখের এক কোণে দেখা গেছে রক্ত, মারধরের চিহ্ন।স্বামী ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের নন্দনকানন এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশ।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে মিতুকে বলতে শোনা যায়, প্যাটেলের সাখে এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফায়ার ছিল, আমি শোভনের সাথে, মাহবুবের সাথে হোটেলে গেছি বিয়ের আগে। আকাশের সাথে আমার সম্পর্ক থাকা অবস্থায়।এরপর পুরুষ কন্ঠে একজনকে বলতে শোনা যায়, আকাশের সাথে তোমার কয় বছরের সম্পর্ক?জবাবে মিতু বলেন, আকাশের সাথে আমার ২০১০ থেকে সম্পর্ক।বিয়ে হয়েছে কত সালে? মিতু বলেন, ২০১৬ সালে। দেড় বছরের মাথায়…।প্যাটেলের সাথে… করছো? মিতু জবাব দেন, করছি।২৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির শেষে ওই ব্যক্তি বলেন, ঠিক আছে।

এদিকে মিতুকে আটকের বিষয় জানাতে শুক্রবার নগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিতুকে আনা হলেও তাকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।তবে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান বলেন, আকাশের মৃত্যুর আগে ঝগড়া-ফ্যাসাদের একপর্যায়ে ওই বাসায় আকাশই মিতুর ভিডিওটি রেকর্ড করেছে। এটা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিতু বলেছে। তবে এটা আমরা ভেরিফাই করিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার নিজের বাসায় বাথরুমে প্রবেশ করে ডা. আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন- বলে খবর পায় পুলিশ। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৬ সালে আকাশ ও মিতুর বিবাহ হয়। পরে মিতু যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে গত ১৩ জানুয়ারি মিতু বাংলাদেশে আসার পরে ঝগড়া-বিবাদ আরো বেড়ে যায়।

‘আত্মহত্যার আগে বুধবার দিবাগত রাতে আকাশের সঙ্গে তার স্ত্রী মিতুর কথা-কাটাকাটি, হাতাহাতি হয়। রাত চারটার দিকে মিতু তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে আকাশ তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ এনে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন।’তবে পরবর্তীতে উক্ত ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।

এ কাজের সাথে কে জড়িত সেটা এখনো নিশ্চিত হয় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মৃতের মোবাইল ও মিতুর মোবাইল উদ্ধার করেছি আমরা। পুলিশের বিশেষজ্ঞরা মোবাইলগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। ডিলেট করা হলে এসব রিকভার করা সম্ভব। তদন্তে সব স্পষ্ট হবে।

এদিকে ডা. আকাশের আত্মহত্যায় তার স্ত্রী মিতুর কোনো বন্ধু বা স্বজন যদি প্ররোচনা দিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তাদেরও আটক করা হবে বলে জানায় পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার, পরিদর্শক (তদন্ত) জোবাইর সৈয়দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত ডা. আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল বাংলাবাজার এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে ভালোবেসে মিতুকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে তিনি স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন। তার স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *