১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাদের হাতে আটক হয়েছিলো এক পাকিস্তানি পাইলট

আন্তর্জাতিক

গোটা মুখ রক্তে মাখা। চারপাশে সশস্ত্র পাক সেনা। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। চোখ বাঁধা। রীতিমতো কলার ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার উর্দি পরা এক যুবককে। ভারতের যুদ্ধ বিমানের পাইলটকে আটকের পর এরকম একটি ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

ভিডিওটি প্রকাশের পর ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তারাও দাবি করেছেন, ছবিতে দেখা ওই ব্যক্তি যদি সত্যি ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন হন, তাহলে তার সঙ্গে এ রকম ব্যবহার করার কোনও অধিকার নেই পাকিস্তানের।

তাদের দাবি, উইং কমান্ডারের সঙ্গে মানবিক ব্যবহার করা উচিত পাকিস্তানের। যুদ্ধবন্দির মর্যাদাও দেওয়া উচিত। যদিও অন্য একটি ভিডিওতে পাকিস্তানি আর্মির ব্যবহারে সন্তোস প্রকাশ করেছেন সেই পাইলট।

ভারতের প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা বলেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধে এ রকম ভাবেই ভারতীয় বাহিনীর হাতে এক পাক যুদ্ধবিমানের পাইলট ধরা পড়েছিলো।

ঘটনাটি ২২ মার্চ ১৯৭১ সালের। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যশোরের একটা বড় অংশ তখন ভারতীয় সেনার দখলে। ৪ শিখ রেজিমেন্টের ছাউনি লক্ষ্য করে বোমা ফেলতে গিয়ে পাল্টা হামলায় ভেঙে পড়ে একটি পাক ফাইটার।

পাইলট প্যারাশুটে করে নামলে তাকে ঘিরে ধরেন ভারতীয় জওয়ানরা। সেখানে শিখ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন এইচ এস পনাগ। তিনি মারমুখী জওয়ানদের হাত থেকে ওই পাক পাইলটকে উদ্ধার করে জেনিভা কনভেনশনের নিয়ম মেনে তাকে নিয়ে যান বাহিনীর সদর দফতরে।

ওই পাইলটই ছিলেন ’৭১-এর যুদ্ধে ভারতের প্রথম যুদ্ধবন্দি। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই পাইলট পারভেজ কুরেশি মেহেদিকে। তিনিই পরবর্তীতে পাক বিমানবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন।

প্রাক্তন সেনা কর্তারা জানাচ্ছেন, কার্গিল যুদ্ধের সময় একই ভাবে পাকিস্তানের মাটিতে ধরা পড়েন অন্য এক ভারতীয় পাইলট কমবমপতি নচিকেতা। তাকে আট দিন পরে রেড ক্রসের মাধ্যমে ভারতের হাতে ফেরত দেওয়া হলেও, অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছিল তার উপর, এমনটাই অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *