দর্শনার্থীদের আনাগোনায় কাদেরের রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছেঃ চিকিৎসক

জাতীয়

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়।

সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে এনজিওগ্রাম শেষে ওবায়দুল কাদেরের হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রক্তে ইনফেকশন ধরা পড়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে ভিজিটর আসতে নিষেধ করলেও দিনভর একাধিক মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় হাসপাতাল এমনকি আইসিইউয়ের ভেতরেও লেগেই ছিল।

সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে তারা ইনফেকশন ছড়িয়েছেন! বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছালে তিনি প্রয়োজনে আইসিইউর বাইরে এসএসএফের পাহারা বসানোর নির্দেশনা দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, রোববার (৩ মার্চ) সারাদিন মাইকিং করে সংক্রমণের ঝুঁকির কথা বলা হলেও অনেকেই কথা শোনেননি।

তিনি জানান, হাজার হাজার নেতাকর্মীর হম্বিতম্বির মুখে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরীরা ছিলেন অসহায়। এ কারণে প্রয়োজনে হয়তো পাহারায় এসএসএফ বসানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, সকালে বুকে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিসিইউ) ২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন তিনি। সকাল থেকেই তাকে দেখতে হাসপাতালের ডি-ব্লকের সামনে ভিড় করেন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি। বিকেল সোয়া ৪টায় তিনি বেরিয়ে যান।

বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে আসেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। পৌনে ৫টার দিকে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *