মাদ্রাসা থেকে আসা সেই আখতার ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত

এক্সট্রা

গত ১১ই মার্চ হয়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে সমাজ সেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আখতার হোসেন। সর্বোচ্চ ৯১৯০ ভোট পেয়ে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। তিনি ছাড়াও আরো ১৪ জন এই পদে প্রার্থীতা করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুল হক ৮০১৮ ভোট পেয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকের দুটিতেই আখতার পড়ালেখা করেছেন মাদ্রাসায়। রংপুরের ভায়ারহাট পিয়ারিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ধাপ-সাতগাড়া বায়তুল মুকাররম মডেল কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন ।

এর আগে ২০১৮/২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রথম আমরণ অনশন করেন আখতার। অনশনের শুরুতে ‘মাদ্রাসার ছাত্র ‘ উল্লেখ করে তার অনশনকে গুরুত্বহীন করে দেখার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর একে এম গোলাম রব্বানী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অনশনকে সমর্থন করে শিক্ষার্থীদের প্রবল চাপের মুখে প্রশাসন পূনঃভর্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

প্রোক্টরের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আখতার বলেন, ” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীই তার অধিকার সম্পর্কে সজাগ। কে মাদ্রাসার আর কে মাদ্রাসার নয় – এমন বক্তব্য যারা দেন, তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভাজন তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চান ‘।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানে এমন বক্তব্যকে তিনি সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বলে উল্লেখ করেন ।তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি এমন বিভাজনে বিশ্বাস করতো তাহলে তারা কখনোই আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করতো না ।

নির্বাচন নিয়ে আখতার জানান, “সকল কারচুপির পরেও তারা এই পদে আমাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি “! নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তার প্যানেলের সকলেই নির্বাচিত হতেন বলেও তিনি দাবী করেন।

এর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে সমাজ সেবা সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য মনোনীত হন আখতার । প্যানেলের যে দু’জন ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন আখতার তাদের একজন ।

আখতারের স্বপ্ন আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে কাজ করা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছে। তার ঢাবি শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে তাকে ভোট দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে অকৃতজ্ঞ নয় এটা তার প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *