তৃতীয় বিয়ে নিয়ে প্রথম বারের মত মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

মুখ খুললেন শ্রাবন্তী- তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। সেই বিয়ে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ছিলো সংশয়ও। শেষ পর্যন্ত সব আলোচনাই থামিয়ে দিলেন শ্রাবন্তী। নিজেই জানালেন তৃতীয় বিয়ে ও স্বামী রোশানের কথা।

গত ১৯ এপ্রিল বিয়ে শেষে কলকাতায় ফিরে এসেছেন এই অভিনেত্রী। এসেই মুখোমুখি হয়েছেন কলকাতা টাইমসের। সেখানে দীর্ঘ সাক্ষাতকারে তৃতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন নতুন স্বামী নিয়ে অনেক অজানা কথা।

শ্রাবন্তী জানান, স্বামীকে তিনি ‘আদু’ নামে ডাকেন। আর রোশান তাকে ‘নাদু’ নামে ডাকে। দুজনের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক তাদের। গত বছর ৭ জুলাইয়ের পর থেকে তাদের মন বিনিময় হয়।

মজা করে এটাও জানালেন, নজর লেগে যায় বলে গোপনে বিয়ে করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘কলকাতায় আমার অনেক শুভাকাঙ্খী আছে। আমি চাইনি আমার জীবনে কেউ হস্তক্ষেপ করুক। আমি জ্যোতিশাস্ত্র বিশ্বাস করি। আমার একজন গুরু আছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, আমি যেন আমার বিয়ের ব্যাপারে কাউকে না বলি।

তৃতীয় বিয়ে নিয়ে প্রথম বারের মত মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

এমনকি এটাও বলেছিলেন যে, আমি যেন বাঙালি প্রথায় আগুনের সামনে বসে বিয়ে না করি। তাই আমি পাঞ্জাবি রীতিতে বিয়ের কাজ শেষ করেছি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এখন একটু শান্তিতে বাস করতে চাই।’

তিনি জানান, টাঙ্গারের একটি রেস্টুরেন্টে ১৫ এপ্রিল মেহেদী অনুষ্ঠান হয়েছে। অমৃতসরে হয়েছে গায়ে হলুদ। তাদের বিয়ে হয়েছে ১৭ এপ্রিল, সকাল ১১টায়।

শ্রাবন্তী জানান, বিয়ের দিন তিনি সিলভার কালারের গাউন পরেছিলেন। ১৮ তারিখ বিয়ের পরদিনের অনুষ্ঠানে পরেছিলেন নীল আর হলুদ লেহেঙ্গা। রিসিপশনের দিন তার পোশাক ছিলো সাদা ও পিংক কালারের লেহেঙ্গা।

এ বিয়েতে হাজির ছিলো শ্রাবন্তীর ছেলেও। তিনি বলেন, ‘ঝিনুক পরিণত একটি ছেলে। তার সমর্থন আমাকে শক্তি দিয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে। সে বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিল এবং সাদা কোর্তা ও পায়জামা পরে আনন্দ করেছে।’

তৃতীয় বিয়ে নিয়ে প্রথম বারের মত মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

তিনি স্বামী হিসেবে রোশানকে পেয়ে গর্বিত। তাই বেশ সিরিয়াস মুডেই বললেন, ‘আমি চাই আমাকে সবাই শ্রাবন্তী সিং নামে ডাকুক।’

শিগগিরই শ্রাবন্তী-রোশান সুইজারল্যান্ডে হানিমুনে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। তবে হানিমুন হবে খানিক সময় নিয়ে। আপাতত এই অভিনেত্রী শুটিং করবেন অভিমন্যু মুখার্জির নতুন সিনেমায়।

অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা হিল্লোল

সম্প্রতি মিলার পারিবারিক জটিলতা এবং বিচ্ছেদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নওশীন, তিন্নি ও হিল্লোলর বিষয় উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে। আর এবার এসব ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল।

পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘সম্প্রতি অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি একটি ইউটিউব চ্যানেলের ইন্টারভিউতে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, নওশীনের কারণে উনার সঙ্গে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছিল। যেটা আপাদমস্তক একটি ভুল তথ্য। যেটা নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার একটা প্রয়াস।

উনার (তিন্নি) সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে (কি কি ঘটেছিল তৎকালীন আমাদের কলিগ এবং সাংবাদিক মহল কমবেশি সবাই জানেন), ২০১১ সালের ২১ আগস্ট রাতে আমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

যেটা সম্বন্ধে উত্তরা পশ্চিম থানার ২/১ জন কর্মকর্তাও অবগত ছিলেন এবং সেই বাসাতে পরবর্তীতে তিনি আরও মাস তিনেক একা অবস্থান করেছিলেন। এর পরে কোথায়ও উনার সঙ্গে আমার কখনো দেখাও হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১১ সালের শেষে উনার সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং ২০১৩ সালের মার্চ মাসে নওশীনের সঙ্গে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন ঘটে এবং সেই থেকে আমরা সুখে-দুখে মিলেমিশে এক সঙ্গেই আছি এবং আল্লাহ চাইলে এক সঙ্গেই থাকতে চাই।

সম্প্রতি ডিজিটাল মিডিয়াতে উনি (তিন্ন) এবং উনাদের মিথ্যাচার আমাদের পুরো পরিবারের জন্য ভীষণ রকমের মানহানির কারণ ঘটছে। যেটা সাংঘাতিক রকমের একটা ক্রাইম।

আমি কখনো চাইনি এই সমস্ত বিষয় ডিজিটাল মিডিয়ায় আলোচনা করতে, কারণ আমার মেয়ে এখন বড় হচ্ছে, তার বয়স ১০ বছরের ওপরে, ধীরে ধীরে তার নিজের একটা ব্যক্তিত্ব তৈরি হচ্ছে। এই সমস্ত আলোচনা তার বাড়ন্ত বয়সে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাকে আজ এগুলো শেয়ার করতে হলো।’

হিল্লোল আরো জানান, এসব ইস্যুকে পুঁজি করে হয়তো মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে বা নষ্ট করে দিতে পারেন তিন্নি। হিল্লোল এটাও আশঙ্কা করছেন যে, মেয়ের সঙ্গে তার ফেসবুকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, হিল্লোল-তিন্নির মেয়ে, বর্তমানে তিন্নির সঙ্গে দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

[X]