কৌশল করে আসন হারালেন ফখরুল

0
400

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে শপথ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শপথ না নেওয়ায় এখন ওই আসনে উপনির্বাচনের উদ্যোগ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নানা নাটকীয়তার পর বিএনপির নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য গত সোমবার শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ায় দুই দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার বিষয়টি। কারণ বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে দুই দফায় পাঁচজন শপথ নিলেও একমাত্র ফখরুলই বাকি ছিলেন। গত সোমবার চার সদস্য জানিয়েছিলেন যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তাঁরা শপথ নিয়েছেন। পরে মির্জা ফখরুলও বিষয়টি স্বীকার করেন। সোমবার রাত থেকেই নানা মহলে প্রচার হয় যে মির্জা ফখরুলও শপথ নেবেন এবং সে জন্য তিনি সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। রাজনীতির অঙ্গনে এমন আলোচনা জোরালো হয় যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি সংসদে যাচ্ছে। তবে গতকাল দৃশ্যপট পাল্টে যায় আরো নাটকীয়ভাবে। গতকাল দুপুরে এক আলোচনাসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান দলের চার এমপিকে শপথ নিতে নির্দেশ দেওয়ায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে দলের সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিষয়টি তারেক রহমানের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ঠিক রাখার কৌশল হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আবার আরেকটি সূত্রের মতে, ফখরুলের শেষ কৌশলের সঙ্গে দলের চেয়ারপারসনের দ্রুত মুক্তির কোনো হিসাব-নিকাশও থাকতে পারে।

আসন শূন্য ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বিবিসিকে বলেন, দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘দলকে গোছাতে, এগিয়ে নিতে এখন অনেক কাজ করতে হবে। আমাকে অনেক সময় দিতে হবে। সে কারণে সংসদের বাইরে থেকে আমি দলের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি দলেরই একটি কৌশল…যাঁরা শপথ নিয়েছেন তাঁরা সংসদের ভেতরে কাজ করবেন, আমি বাইরে থেকে কাজ করব।’সংবিধান অনুযায়ী ২৯ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত ছিল ফখরুলের শপথ নেওয়ার সময়সীমা। এরপর তাঁকে শপথ নিতে হলে তা উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে স্পিকারের বিবেচনার ওপর নির্ভর করত। কিন্তু ফখরুল সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ার কথা অস্বীকার করায় গতকালই তাঁর আসন শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্পিকার সংসদে বলেন, সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক) অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সদস্য শপথ গ্রহণ করতে যদি অসমর্থ হন, তাহলে আসনটি শূন্য হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ নিতে অসমর্থ হওয়ায় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ (৩) বিধি অনুযায়ী শূন্য হওয়া সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করার বিধান আছে। এ অবস্থায় শপথ গ্রহণে অসমর্থ হয়েছেন নির্বাচনী এলাকা ৪১, বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ (৩) উপবিধি অনুযায়ী এই সংসদে অবহিত করা হলো। এখন নির্বাচন কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এর আগে বিকেলে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি।’ তাহলে ফখরুল শপথ নিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘চিঠি আমার কাছেই আসতে হবে বিষয়টি এমন না। সংসদ সচিবালয়ে আসতেও পারে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে চিঠি আসে তাহলে শপথ গ্রহণে সমস্যা নেই।’এ বিষয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা শপথ নিয়ে সংসদে এসেছি। মহাসচিবের বিষয়ে কী করে বলি! শপথ নিবেন কি না তিনিই (ফখরুল) ভালো বলতে পারবেন।’

বিএনপির চার এমপির শপথের পর গত সোমবার রাতে মির্জা ফখরুল স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানাজানি হয়। তবে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনাসভায় ফখরুল বলেন, ‘আমি কোনো চিঠি দেইনি, কোনো সময় চাইনি। আপনারা (গণমাধ্যম) আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার দলের সিদ্ধান্ত হলো কিন্তু আপনি শপথ নিলেন না কেন? এটাও আমার দলের সিদ্ধান্ত। এটা আমাদের সুচিন্তিত কৌশল, সেই কৌশলের অংশ হিসেবে আমি শপথ নেইনি, আমি শপথের জন্য কোনো চিঠি দেইনি।’এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ফখরুল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘অপেক্ষা করেন সব কিছু জানতে পারবেন।’

LEAVE A REPLY