দুর্নীতির দায়ে বিমানের এমডিকে অব্যাহতি

0
331

দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম মোসাদ্দিক আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিমানের বোর্ডসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিমানের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমানের একাধিক বোর্ড সদস্য কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্নীতি, অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার কারণে বিমানের বোর্ড মোসাদ্দিক আহমেদকে অব্যাহতি দিয়েছে। আজই (গতকাল) তা কার্যকর হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’বিমান সূত্র জানায়, এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ টানা তৃতীয় মেয়াদে (তিন বছর) এমডির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ মে।

১৯৮৩ সালে বিমানের সহকারী ম্যানেজার পদে কাজ শুরু করেন মোসাদ্দিক আহমেদ। ২০১৫ সালে বিমানের পরিচালক পদ থেকে অবসরে যান তিনি। পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি ও প্রধান নির্বাহী পদেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসরে যাওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ জুন বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ফের বিমানের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। গত কয়েক বছর এই পদে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

জানা গেছে, তাঁর মেয়াদে বিমানের টিকিট বিক্রি ও কার্গোসহ নানা খাতে অনিয়ম বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং কার্গোর ৪১২ কোটি টাকা লুটপাট করা তৎকালীন পরিচালক আলী আহসান বাবু ও কার্গোর বর্তমান জিএম আরিফ উল্লাহর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে গড়িমসি করেন। গত দুই দিন বিমান অ্যাডমিন শাখা থেকে এসংক্রান্ত ফাইল পাঠানো হলেও মোসাদ্দিক আহমেদ চার্জ গঠনে অনুমতি দেননি।উল্লেখ্য, বিমানের এসব দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি কালের কণ্ঠে ‘দুর্নীতির ডানায় বিমান’ শীর্ষক একটি সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY