ফল ঘোষণার পর সবার মন জয় করে নিলেন দেব

তিনি সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বারবার তিনি এই কথা বলে এসেছেন। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রথম থেকেই তিনি এই ‘ভালো চিত্র’ ধরে রেখেছিলেন।নির্বাচন পর্বের শেষে এসেও সেই একই ইমেজ ধরে রাখলেন দেব। বললেন যেই জিতুক, তা হবে দেশের জয়।

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে বলতে চাইছেন, দেশের জনতা ভোট দিয়েছে। সেই ভোটেই নেতারা পার্লামেন্টে যাবেন এবং দেশের জনতাই সবার আগে তাই তিনি মনে করছেন যে ফলাফলই হোক তা আদতে কোনও দলের নয় জিতবে দেশ। নির্বাচনের ফলের আগের দিন তিনি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন , “কোনও একটা দল হারতে পারে, একজন ব্যক্তি হারতেই পারে কিন্তু জিতবে ভারতের গণতন্ত্র। জিতবে ক্ষেতে কিষাণ কলে মজুর, জিতবে ছাত্র শিক্ষক শিল্পী। জিতবে মানুষ। আমি চাই, যারাই আসুক সরকারে দেশ যেন শেষমেষ জিতে যায়।”

রাজনীতিতে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে ছক এই বছর লোকসভা নির্বাচনের প্রথম থেকেই কষেছিলেন দেব। বিরোধীদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বিরোধী দুই প্রার্থীকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজনীতির হার জিতের বাইরে খেলাটা খেলতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন সুস্থ লড়াই। বলেছিলেন , “যে জিতবে তারপর দেখা যাবে।” ভারতী ঘোষের জন্য তিনি লিখেছেন, “বিজেপি প্রার্থী শ্রীমতি ভারতী ঘোষকে শুভেচ্ছা। উনি আমাদের জেলার এস পি ছিলেন, ঘাটালে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কাজে সাহায্যও করেছেন। জেতা হারা পরের কথা, আমরা সব্বাই মিলে আগামী দিনে ঘাটালে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব।” একই কথা তিনি লিখেছেন তপন গাঙ্গুলি (সিপিআইএম)-র জন্যও তিনি লিখেছেন “সিপিআইএম প্রার্থী তপন গাঙ্গুলিকে অভিনন্দন। আমরা যেই জিতি বা হারি সবাই একসঙ্গে ঘাটাল এর মানুষজনের সুখ দুঃখ একসঙ্গে থাকবো। ঘাটালের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের মতবিরোধ যেন উন্নয়নের অন্তরায় না হয়।”

ভোট পূর্ববর্তী প্রচারের মধ্যম পর্যায়ের ঘটনা। দেবকে উদ্দেশ্য করা ভারতী ঘোষ বলেছিলেন , “যারা আড়ালে দাঁড়িয়ে আমার কথা শুনছেন তাদের বলে রাখি আর একটাও অভিযোগ যদি আমি শুনতে পাই বা দেখতে পাই তাহলে মনে রাখবেন বাড়ি থেকে বেরোনো বের করে দেব। মনে রাখবেন এই।ভারতীর এই ‘হুমকি’ প্রসঙ্গে দেব বলেছিলেন, “আমি ওনাকে শুভেচ্ছা জানাবো। আমি মনে করি রাজনীতিতে সৌজন্য প্রয়োজন, তাই আগেও সেটা রেখেছি এখনও রাখব। আর ওনার যা বলার উনি বলেছেন।” একইসঙ্গে দেব বলেছিলেন ,”রাজনীতি করলেই খারাপ কথা বলতে হবে এমন কথা কোথায় লেখা আছে?” দেবের কথায় “আমি যদি কাদা ছুঁড়ে মারি আমার গায়েও একটু লাগবে। সেটা আমি চাই না”।

কাট টু ঘাটালে নির্বাচনের দিন। কার্যত নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের। কেশপুরের চাঁদখোলাতে ভারতীকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে৷ শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি৷ আর তাতেই পড়ে গিয়ে প্রার্থী আহত হন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন৷ এই ঘটনার পরে দেবের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ভারতীর সঙ্গে যা হয়েছে তা অনুচিত’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

[X]