আমের ব্যবসা করছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৫ নেতা

আমের ব্যবসা শুরু করেছেন মুহাম্মদ রাশেদ খানসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়ক। রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আম সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা এই ছাত্রনেতারা চাকরি না করে কেন আমের ব্যবসায় ঝুঁকলেন? অন্যতম উদ্যোক্তা মুহাম্মদ রাশেদ খান জানালেন, ব্যবসায় লাভের পাশাপাশি আমরা একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজে নেমেছি। ছাত্রছাত্রী থাকা অবস্থায় বা চাকরির চেষ্টারত অবস্থায় কর্মব্যস্ত থাকার দৃষ্টান্ত তৈরির জন্য আমরা এটা করছি। আমাদের দেখে যেন শিক্ষার্থীরা বোঝে, অলস বসে না থাকে নিজেদের খরচ নিজেরা চালাতে পারে, এমন কিছু না কিছু যেন করতে থাকে।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে রাশেদ খান জানালেন, প্রথমবারের মতো বুধবার ২০ মণ আম দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠালাম। আরো অর্ডার হাতে রয়েছে।প্রথম ধাপের বেশির ভাগ আমই ল্যাংড়া। তবে আম্রপালির অর্ডার বেশি বলে জানালেন রাশেদ। তাঁরা অর্ডার নিচ্ছেন ফেসবুকে আর আম ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে।

রাশেদ ছাড়াও এ ব্যবসায় জড়িত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অপর চার যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এ পি এম সুহেল, ইডেন কলেজের লুৎফন্নাহার লুমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবুল বাশার ও ঢাকা কলেজের আরিফ হোসেন।

‘আমাদের দেখ, তোমরাও শেখ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যবসা করছেন বলে জানালেন রাশেদ।রাশেদ বলছিলেন, আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাই উন্নত দেশে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে কিন্তু আমাদের দেশে করে না। পাঁচ থেকে সাত বছর কর্মবিমুখ থাকে।

‘দেশে খাদ্যে ভেজালের কারণে ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই কার্যক্রমকে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে, কেমিকেল ও রাসায়নিকের বিরুদ্ধে আন্দোলন হিসেবেও দেখতে পারেন’ যোগ করেন রাশেদ।

আমের মান যাচাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে রাশেদ বলেন, যারা রাসায়নিকমুক্ত আম করেন আমরা সেখান থেকেই আম সংগ্রহ করছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মী নাফিউল ইসলাম তাঁদের নিজের বাগানসহ অন্যান্য ভালো লোকের বাগান থেকে আম বাছাই করে দিচ্ছেন। ঢাকা থেকে আমাদের আবুল বাশার ও আরিফ হোসেন সেখানে গিয়ে অবস্থান করে কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*