মাশরাফির সমালোচনাকারীদের উপর চটেছেন অ্যান্ডি রবার্টস

মাশরাফি বিন মর্তুজার সমালোচনাকারীদের ওপর এবার চটেছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার অ্যান্ডি রবার্টস। তার ভাষ্য অযোগ্য লোকেরাই না জেনে, না বুঝে মাশরাফি সম্পর্কে মন্তব্য করছে। তার মতে, ক্রিকেটে মাশরাফির যে ত্যাগ তা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য অনন্য উদাহরণ।

১৯৭০ ও ১৯৮০ দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব ক্রিকেটের সিংহাসনে এককভাবে রাজত্ব করে। বিশেষ করে ক্লাইভ লয়েড নেতৃত্বে দলটি ছিল অপ্রতিরোধ্য। ক্রিকেটে তাদের ঈর্ষণীয় অর্জনে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথম ক্লাইভ লয়েড, স্যার ভিভ রিচার্ডস, স্যার অ্যান্ডি রবার্টস, ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, গর্ডন গ্রীনিজ এমন দশ জন গ্রেড ক্যারিবীয়দের নিয়ে তৈরি করা হয় ফায়ার ইন ব্যাবিলন। যা বিশ্বে প্রথম ক্রিকেটারদের নিয়ে কোন চলচ্চিত্র।

সে সময় ক্রিকেট বিশ্বে শাসন করা ব্যক্তিরা কেমন রোমাঞ্চিত ছিলেন রুপালি পর্দায়। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সেই স্মৃতিচারণে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন স্যার অ্যান্ডি রবার্টস।তিনি বলেন, ‘সে সময় হঠাৎ করেই বিশ্বকে ক্লপিসো ক্রিকেট গ্রাস করছিল কিন্তু ভিন্ন ক্রিকেটের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল অনেক। কিন্তু এখনকার ক্রিকেটারদের মাঝে সেটি নেই। তাই আমাদেরকে নির্বাচিত করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল।’

গ্রেট ফাস্ট বলার অ্যান্ডি রবার্টস বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। বিশেষ করে তার প্রিয় শিষ্য টাইগার কাপ্তান মাশরাফি মুর্তজার। যাকে তিনি কৌশিক বলে ডাকেন। বলতে গেলে রবার্টসের অধীনে ম্যাশের ক্যারিয়ারের উত্থান। কিন্তু মাশরাফিকে নিয়ে বিশ্বের নিন্দুকেরা সমালোচনা করায় বেশ চটেছেন রবার্টস। এককথায় তাদেরকে ধুয়ে দিলেন ২০১৪ সালের নাইট উপাধি পাওয়া রবার্টস।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি বিস্মিত ওদের কথা শুনে অবাক হই যে ছেলেটা এতো ইনজুরি আর এতো সংঘাতের মধ্য দিয়ে প্রায় ২০ বছর ক্রিকেট খেলছে তাকে নিয়ে এভাবে সমালোচনা করছে। আসলে তাদের কোন ধারণা নেই ক্রিকেট আর কৌশিকের সম্পর্কে। ও যতটা সাধনা করে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে তাতে করে ক্রিকেট বিশ্বে সবার জন্য উদাহরণ। কারণ আপনি সাধনা আর ত্যাগ করতে না জানলে ক্রিকেটার হতে পারবেন না। যা কৌশিক করতে পেরেছে।

উইন্ডিজের মাটি পেসারদের জন্ম নেওয়ার খনি। বিশ্ব সেরা ফাস্ট বোলাররা এখান থেকেই উঠে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখনও উঠে আসে না বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার।এ বিষয়ে স্যার অ্যান্ডি রবার্টস বলেন, একটা সময় এশিয়া থেকে পাকিস্তানে ভালো ফাস্ট বোলার পাওয়া গেছে। আর ভারত তো কদিন হল পাচ্ছে। পার্থক্য হলো তোমাদেরও (বাংলাদেশ) অপেক্ষা করতে হবে। সেই ভাবে বোর্ডেরও পরিকল্পনা নিতে হবে।

স্যার অ্যান্ডি রবার্টস ২০০১ সালে বাংলাদেশের বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে এসেছিলেন। তার হাতে দীক্ষা নিয়েছিলেন তখনকার তরুণ ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, তালহা ও শরীফরা। সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আবারও আসতে চান ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*