কেমন আছেন সেই নায়ক শাহীন আলম

নব্বই দশকে যখন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিন পার হচ্ছিল তখন নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে অনেক নায়কেরই আগমন ঘটেছিল। কেউ সফল হয়েছেন কেউবা আবার হারিয়ে গিয়েছেন। সেসময় চলচ্চিত্রে এসেছিলেন শাহীন আলম। কাজ করেছেন অসংখ্য ছবিতে।

চলচ্চিত্রে যখন অশ্লীলতা শুরু হয়ে গেল তখন অনেক নায়ক-নায়িকাই তাদের পথচলা থামিয়ে দিয়েছিলেন। অশ্লীলতার যুগে নায়িকাদের পাশাপাশি যে সকল নায়কের নাম উচ্চারিত হত তাদের মধ্যে শাহীন আলম অন্যতম। চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে ইতিবাচক অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও অশ্লীলতার স্রোতে গা ভাসানো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন নি। ফলে অশ্লীলতা বিরোধী অভিযানের ফলে অন্যান্যদের মত শাহীন আলমও চলচ্চিত্র থেকে ছিটকে পড়েন।

আজ বুধবার (১৭ জুলাই) বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার। কথা বলে জানার চেষ্টা করা হয়েছে তার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে। চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই। এরপরও যখন সুস্থ ছিলেন তখন কাজও করেছেন কিন্তু এখন আর কাজ করার মত সেই ইচ্ছে বা শক্তি আর নেই। কিডনির সমস্যায় ভুগছেন অনেক দিন ধরেই। যার জন্য নিয়মিত চিকিৎসাও নিতে হয়। বাসা থেকে মসজিদ আর দোকান। এই এখন শাহীন আলমের ব্যস্ততা। পরিবারে এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার। এছাড়াও তার মা সঙ্গে রয়েছেন।

তিনি বলেন, এখন বলতে গেলে পরিবার নিয়েই ব্যস্ত রয়েছি। মাঝে মধ্যে দোকানে যাই। ব্যবসা করেই চলছি এখন। চেষ্টা করছি ব্যবসাকে প্রসারিত করতে কিন্তু সেটা হয়ে উঠছে না। কোন রকমে চলে যাচ্ছে আরকি! এদিকে শারীরিক অবস্থা তো আগের মতোই। কিডনির সমস্যাটা অনেকদিন থেকেই। ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানো দরকার কিন্তু সেটাও করতে পারছি না। আর্থিক বিষয় তো আছেই তারপর আমার হচ্ছে ‘ও’ নেগেটিভ রক্ত, আর এটা অনেক রেয়ার! যার কারণে কুলায়ে উঠতে পাচ্ছি না। আপাতত কিডনি ডায়ালসিস করে চলতে হচ্ছে। কিন্তু জানি না এভাবে কতদিন চলতে পারব।

তিনি আরও বলেন, এক সময় তো অনেক কাজ করেছি। কিন্তু এখন আর তেমন ইচ্ছে নেই। আর ইচ্ছা থাকলেও করার মত সামর্থ্য নেই। এখন যেই অবস্থাতে আছি সেভাবেই থাকতে চাই। মনে হয় না আর চলচ্চিত্রে ফেরা হবে কখনও।

শাহীন আলম জগন্নাথ কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে বিকম পাস করেছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালের নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। ১৯৯১ সালে তার প্রথম ছবি ‘মায়ের কান্না’ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে তিনি মঞ্চ নাটকে কাজ করতেন। এখন তিনি পুরোদস্তুর কাপড়ের ব্যবসায়ী। ঢাকার গাউসিয়াতে তার নিজস্ব দোকান। আর রাজধানীর নিকেতনে পরিবারকে নিয়ে বসবাস করেন।

তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রেমিক নাম্বার ওয়ান (২০১৩), শুভ্র দারোয়ানের ছেলে (২০১১), জীবন নিয়ে যুদ্ধ (২০০৯), রাজধানীর রাজা (২০০৮), ভণ্ড নেতা (২০০৪), বিগ বস (২০০৩), টপ সম্রাট (২০০৩), মাস্তানের উপর মাস্তান (২০০২), মেজর সাহেব (২০০২), লণ্ড ভণ্ড (২০০০), স্বপ্নের নায়ক (১৯৯৭), বশিরা (১৯৯৬), প্রেম দিওয়ানা (১৯৯৩) ও শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*