Published On: Mon, Sep 11th, 2017

মধু-দারুচিনির জাদুকরী মিশ্রন দূর করবে ৭ রকমের সমস্যা – জেনে নিন কীভাবে বানাবেন ও খাবেন

মধু-দারুচিনির জাদুকরী মিশ্রন – মধু এবং দারুচিনি দুটোই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশ পরিচিত নাম। দুটোই ঔষধি গুনাগুনের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঠান্ডা-সর্দি থেকে শুরু করে হৃদপিণ্ডের নানা সমস্যার সমাধান করে মধু এবং দারুচিনি দুটোই। এই দুটি অসাধারণ প্রাকৃতিক ঔষধের গুণাবলী বলে শেষ করা যায় না।

 

মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে? কোলেস্টোরল বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে? কোনো চিন্তা নেই সম্পূর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবিহীন ভাবে এইসব ধরণের সমস্যা দূর করে দিতে হাতের কাছেই পেতে পাবেন জাদুকরী উপাদান। মধু এবং দারুচিনির দারুণ মিশ্রন দূর করবে প্রায় ৭ ধরণের সমস্যা। চলুন জেনে নেয়া যাক সমস্যা ও তার সমাধানগুলো।

 

১) খারাপ কোলেস্টোরল কমায়

প্রতিদিন পৌনে ১ চা চামচ দারুচিনি এবং ৫ চা চামচ মধু দেহের খারাপ কোলেস্টোরল কমাতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। চাইলে এই দুটো একসাথে মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে খেতে পারেন প্রতিদিন।

২) বাতের ব্যথা কমায়

এই দুটি ঔষধি খাবারের রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। মধু-দারুচিনির মিশ্রন বাতের ব্যথা এবং জয়েন্টে ব্যথার মতো ব্যথা দূর করতে সক্ষম। প্রতিদিন ১ কাপ গরম পানিতে ২ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ দারুচিনিগুঁড়ো মিশিয়ে সকালে এবং বিকেলে পান করুন। সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।

 

৩) পেটের গণ্ডগোল দূর করে

মধু-দারুচিনির মিশ্রন পেটে গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে, পেটে ব্যথা দূর করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। ১ গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ দারুচিনি খুব ভালো করে মিশিয়ে খালি পেটে পান করে নিন। পেটের গণ্ডগোল থেকে রেহাই পাবেন।

৪) চুল পড়া কমায়

মধু-দারুচিনির মিশ্রন মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুল মজবুত করে তোলে। চুলের আকার ও লম্বা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অলিভ অয়েল গরম করে নিন। এরপর এতে মেশান ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো। মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারেই ভালো ফল পাবেন।

 

৫) শারীরিক দুর্বলতা কমায়

১ গ্লাস পানিতে মাত্র আধা চা চামচ মধু এবং ১ চিমটি দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে ১ সপ্তাহের মধ্যে শারীরিকভাবে অনেক পার্থক্য দেখতে পাবেন। এই মিশ্রণটি আপনাকে চা/কফির মতো স্ফূর্তি যোগাবে তবে এটি চা/কফির মতো ক্ষতিকর নয় একেবারেই।

৬) ঠাণ্ডা-সর্দি সারায়

মধু ও দারুচিনি উভয়েরই রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইলার এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ঠাণ্ডা-সর্দির সমস্যা দ্রুত সারায়। প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ মধুতে ১/৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খান। দ্রুত সমস্যার সমাধান পাবেন।

 

৭) ব্রণ সমস্যার সমাধান করে

৩ টেবিল চামচ মধুতে ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর এই পেস্ট ব্রণের উপর লাগিয়ে ঘুমুতে যান। সকালে উঠে নিজেই পার্থক্য দেখতে পাবেন।

 

অন্যরা যা পড়ছে 

সাতদিন খালি পেটে রসুন-মধু খেলে কী হয় ?

কেবল খাবার হিসেবে নয়, বহুকাল আগে থেকে রসুন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জাতিই রসুনকে বিভিন্ন অসুখ থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করে আসছে।

 

প্রাচীন গ্রিকরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই রসুনের ব্যবহার করত। এ ছাড়া অলিম্পিক গেমের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য রসুন খেতেন। প্রাচীন চীন ও জাপানে রসুনকে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ভারতে হৃদরোগ ও গাঁটে ব্যথা প্রতিরোধে দীর্ঘকাল ধরেই রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে।

 

আবার বিভিন্ন দেশে রোগ নিরাময়কারী উপাদান হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ শতকের মাঝামাঝি এসে একে অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মধুকে সংক্রমণ প্রতিরোধী উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই দুটো চমৎকার জিনিস যখন একসঙ্গে হয়, তখন এর গুণ বেড়ে যায় আরো বেশি।

রসুন ও মধুর মিশ্রণ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, ঠান্ডা, জ্বর, কফ ইত্যাদি সারাতে বেশ ভালো কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কেবল সাতদিন রসুন ও মধুর মিশ্রণ খেলে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে অনেকটাই রক্ষা করা যায়।

জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট রাইস আর্থ জানিয়েছে মধু ও রসুনের এই মিশ্রণটি তৈরির প্রণালি।

 

উপাদান

একটি মাঝারি আকৃতির বয়াম, মধু, তিন থেকে চারটি রসুন। (খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো বের করুন।)

প্রণালি

প্রথমে বয়ামের মধ্যে রসুনের কোয়াগুলো নিন। এরপর এর মধ্যে মধু ঢালুন। বয়ামের মুখ বন্ধ করে মিশ্রণটি ফ্রিজের মধ্যে সংরক্ষণ করুন।

 

প্রতিদিন খালি পেটে মিশ্রণটি আধা চা চামচ করে খান। ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য দিনে ছয়বার আধা চা চামচ করে এটি খেতে পারেন। এটি সংক্রমণ দূর করতে কাজ করবে।

Displaying 1 Comments
Have Your Say
  1. I would like to get all update

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

[X]