Published On: Sat, Jan 20th, 2018

জেনে নিন, ত্বকের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি !!

মুখের ত্বকের যত্ন আমরা সবাই নেই। অনেকে হাত ও পায়ের যত্ন নিতেও ভুলি না। কিন্তু আমাদের শরীরের একটা অংশ প্রায় সময়ই অবহেলায় পড়ে থাকে। সেটা হল আমাদের ঘাড় ও পিঠ। আমরা যখন বাইরে বের হই আমাদের মুখ ও হাতের সাথে সাথে ঘাড়েও রোদ ও দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাসায় ফিরে আমরা যখন আয়না দেখি, আমরা শুধু মুখের ক্ষতিটাই দেখতে পাই এবং সেটারই যত্ন নেই। ফলে ঘাড় ও পিঠের খোলা অংশ আস্তে আস্তে মুখের তুলনায় কালো হয়ে যেতে থাকে এবং একসময় এই রঙের পার্থক্য খুব বেশি চোখে পড়ে। দুই বাহুর নিচে, অর্থাৎ বগলের কালো দাগ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন অনেকেই। এই কালো দাগ কমািতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন আলু ও লেবুর রস অথবা দই ও দুধের মাস্ক। এসব সমস্যা সমাধানে কিছু ঘরোয়া উপায় এখানে দেয়া হল।

আমন্ড

ত্বকের যত্নে আমন্ডের কোনো তুলনা হয় না। এর বিভিন্ন উপাদান ত্বকের পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে। আমন্ড ঘন্টাখানেক ভিজিয়ে রেখে দিন। এবার এটি বেটে নিন। এবার ১ চা চামচ আমন্ড বাটা, ১ চা চামচ গুঁড়ো দুধ আর ১ চা চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘন্টা। এরপর ধুয়ে ফেলুন। যদি আস্ত আমন্ড না পান তবে আমন্ড পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন। ভাল ফল পেতে চাইলে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

ওটস্

ঘাড়ে নিয়মিত স্ক্রাবিং করাটা খুবই জরুরী। আর স্ক্রাবার হিসেবে ওটস্ এর তুলনা হয় না। দুই চা চামচ ওটস্ গুড়োর সাথে পরিমাণমত টমেটো পিউরি মেশান। এবার এই মিশ্রণ আপনার ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর হালকা হাতে ঘাড়ে স্ক্রাব করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে সব ময়লা উঠে আসছে। এই স্ক্রাব আপনার ঘাড়ের ত্বকের মৃত কোষ ঝরীয়ে ফেলবে এবং টমেটোর ব্লিচিং উপাদান ত্বকের রঙ হালকা করবে।

অ্যালোভেরা 
ত্বকের কালো ভাব দূর করতে অ্যালোভেরার জুরি নেই। অ্যালোভেরা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা অন্য কোনকিছুর সাথে প্যাক করেও ব্যবহার করতে পারেন। একটি অ্যালোভেরা পাতা কেটে শাঁস বের করে নিন। শাঁসের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। প্যাকটি মুখে ভালো করে লাগান। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পানি দিয়ে ধোয়ার আগে ২/ ৩ মিনিট ম্যাসাজ করে নিন। আর দেখুন এক নিমিষে দাগ হয়ে গেছে গায়েব। অ্যালোভেরার নির্যাস বের করে সরাসরি আপনার ঘাড়ের ত্বকে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে হলে রোজ একবার ব্যবহার করুন।

বেসন

বেসন, টকদই আর সামান্য মধু মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরী করুন। এটি ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর হাত দিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখুন কেমন পরিস্কার দেখাচ্ছে।

আলু ও লেবুর রস

আলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা করে। লেবুর রসের মধ্যে থাকা সাইট্রিক এসিড ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান সংক্রমণ তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। আলুর খোসা ছাড়িয়ে ছোট করে কাটুন। এর পর ব্ল্যান্ড করে এর রস তৈরি করুন। পাঁচ ফোঁটা লেবুর রস এর মধ্যে মেশান। তুলার বলের মধ্যে এই রস নিয়ে বগলে মেখে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে বগল পরিষ্কার করুন। বগলের কালো দাগ দূর করতে প্রতিদিন এটি ব্যবহার করুন।

দুধ ও দইয়ের মাস্ক

এই মাস্কের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে। এই মাস্ক তৈরিতে এক চা চামচ বেসন, সমপরিমাণ দুধ ও দই ভালোভাবে মেশান। এই মিশ্রণ পাতলাভাবে বগলে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট এভাবে রাখুন। এর পর ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে বগলের কালো দাগ দূর হবে।

লেবুর ফেইস প্যাক
যা লাগবে- অর্ধেকটা লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ মধু
লেবু রস এবং মধু মিশিয়ে নিন। এটি আপনার মুখে ভাল করে লাগান। ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে প্রথমে মুখ ধুয়ে ফেলুন এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোন। মুখ মুছে কোন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

চন্দনের প্যাক
যা লাগবে- চন্দনের পাউডার ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ৩ চাচামচ, গ্লিসারিন ১ চা চামচ, গোলাপ জল।
চন্দনের গুঁড়া, লেবুর রস, গ্লিসারিন এবং গোলাপ জল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। মুখে ভাল করে লাগান , বিশেষ কএ কালো দাগের ওপর লাগান। কিছু সময় অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজের প্যাক
অনেক দিন পুরানো হয়ে যাওয়া কালো দাগ দূর করতে এই প্যাক ভাল কাজ করে থাকে। পেঁয়াজ এবং আদা পেষ্ট করে নিন। এই পেস্টটি আপনার কালো দাগের ওপর ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এরপর ভাল কোন ময়েশ্চারাইজার লাগান।

দুধ-মধুর ফেইস প্যাক
যা লাগবে- ৩ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ, ২ টেবিল চামচ মধু। কাঁচা দুধ এবং মধু মিশিয়ে নিন। তারপর এটি মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দুধ ত্বকের রং উজ্জ্বল করে আর মধু ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে থাকে। এই প্যাক প্রতিদিন ব্যবহারে কালো দাগ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলও করে থাকে।

Read also:

বিরক্তিকর রক্তচোষা ছারপোকা ধ্বংস করুন এক মিনিটেই, শিখে নিন কৌশল

ছারপোকা, রক্তচোষা এই পতঙ্গটি সত্যিই খুব বিরক্তিকর। ঘরে এটির আক্রমণ ঘটলে অশান্তির শেষ থাকে না। কারণ ছারপোকা রক্ত খেয়ে আপনার রাতের ঘুমকে হারাম করে।

ছারপোকা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট অন্যান্য পোষকের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। পোকাটি বিছানা, মশারি, বালিশের এক প্রান্তে বাসা বাঁধলেও ট্রেন কিংবা বাসের আসনেও এদের দেখা মেলে। বিছানার পোকা হলেও এর অন্যতম পছন্দের আবাসস্থল হচ্ছে – ম্যাট্রেস, সোফা এবং অন্যান্য আসবাবপত্র। পুরোপুরি নিশাচর না হলেও ছারপোকা সাধারণত রাতেই অধিক সক্রিয় থাকে এবং মানুষের অগোচরে রক্ত চুষে নেয়। মশার মতো ছোট্ট কামড় বসিয়ে এরা স্থান ত্যাগ করে। তাই বলে যে দিনের বেলায় কামড়াবে না এমন না।

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক জ্বালাতনকারী-অস্বস্তিকর এই পোকাটিকে কীভাবে সহজেই ঘর থেকে তাড়ানো যায়।

ন্যাপথালিন

ঘরের ছারপোকা তাড়াতে ন্যাপথলিন খুবই কার্যকারী। পোকাটি তাড়াতে অন্তত মাসে দু’বার ন্যাপথলিন গুঁড়ো করে বিছানাসহ উপদ্রবপ্রবণ স্থানে ছিটিয়ে দিয়ে রাখুন। দেখবেন ঘরে ছারপোকা হবে না।

কেরোসিনের প্রলেপ

ছারপোকা তাড়াতে মাঝে মাঝে আসবাবপত্রে কেরোসিনের প্রলেপ দিন। এতে ছারপোকা সহজেই পালাবে।

ঘর পরিষ্কার করুন

সপ্তাহে একবার হলেও সারা ঘর ভালো করে পরিষ্কার করুন। ছারপোকা মোটামুটি ১১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে মারা যায়। ঘরে ছারপোকার আধিক্য বেশি হলে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কাঁথা ও ঘরের ছারপোকা আক্রান্ত জায়গাগুলোর কাপড় বেশি তাপে সিদ্ধ করে ধুয়ে ফেলুন। ছারপোকা এতে মারা যাবে।

স্প্রে করুন

ঘরের যে স্থানে ছারপোকার বাস সেখানে ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে করুন। দুই থেকে তিন দিন এভাবে স্প্রে করার ফলে ছারপোকা আপনার ঘর ছেড়ে পালাবে।

আসবাবপত্র ও লেপ-তোশক

আসবাবপত্র ও লেপ-তোশক পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত রোদে দিন। এতে করে ছারপোকার আক্রমণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ই ছারপোকা থাকলে সেগুলো মারা যাবে।

অ্যালকোহল

আপনার ঘরের ছারপোকা তাড়াতে অ্যালকোহল ব্যবহার করতে পারেন। ছারপোকাপ্রবণ জায়গায় সামান্য অ্যালকোহল স্প্রে করে দিন দেখেবেন ছারপোকা মরে যাবে।

বিছানা দেয়াল থেকে দূরে

ছারপোকার হাত থেকে রেহাই পেতে আপনার বিছানা দেয়াল থেকে দূরে স্থাপন করুন। শোয়ার আগে ও পরে বিছানা ভালো করে ঝেড়ে ফেলুন সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

[X]