Published On: Sat, Jan 20th, 2018

সাবধান! ঘুমের সময় ভুল করেও মোবাইল ফোন কাছে রাখবেন না

ঘুমের সময় ভুল করেও মোবাইল ফোন কাছে রাখবেন না। মোবাইল ফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি থেকে হতে পারে নানান সমস্যা। বিশেষ করে কোনো ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করার সময় এই ফ্রিকোয়েন্সি বা চলন্ত গাড়িতে মোবাইলের টাওয়ার ধরার সময়টাও বেশ ক্ষতিকারক। অন্তত ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথের একটা গবেষণা সেই রকমই বলছে। সংস্থার পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই বিষয়ে প্রচারও করা হচ্ছে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী সমস্যা হতে পারে মোবাইলের এই তরঙ্গ থেকে :

১) ক্যানসার – মোবাইল ফোন শরীরের কাছে রেখে ঘুমোলে তার তরঙ্গ থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যখন ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে না সেই সময় অন্তত মোবাইলটা শরীরের থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই বাঞ্ছনীয়। তাতে ক্যানসারের আশঙ্কা কিছুটা কমে।

এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ট্রাস্টের ডাঃ দেভরা ডেভিস বলেন, মোবাইল ফোন শরীরের কাছাকাছি রাখা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এমনকি মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘অ্যাপেল’-ও এই সম্পর্কে সহমত প্রকাশ করেছে। আই ফোনে ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি’-র ব্যাপারে নোটিফিকেশন দেওয়ার জন্য আলাদা অপশনও আছে।

২) মস্তিষ্কের বিকাশ – শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে এই তরঙ্গ। এই বিষয়ে বাবা-মায়েরা সে ভাবে সচেতন নন।

ডাঃ দেভরা ডেভিস বলেন, বড়োদের থেকে ছোটোদের ওপর এর কুপ্রভাব অনেক বেশি।

৩) কানের সমস্যা – মোবাইল ফোনের এই তরঙ্গ বা ফ্রিকোয়েন্সি মাথার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি করে কানেরও। শ্রবণ শক্তি কমে এই ফোনের বেশি ব্যবহারের দরুণ।

৪) মনঃসংযোগে ঘাটতি – মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহারের ফলে মনঃসংযোগের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে ঘাটতি।

৫) মানসিক স্থিতি – মনঃসংযোগের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্থিতাবস্থাতেও সমস্যা হতে পারে।

৬) নিদ্রাল্পতা – বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের নিদ্রাল্পতা একটা বড়ো সমস্যা। তার জন্য দায়ী মোবাইল ফোনের এই তরঙ্গ।

এই কারণগুলোর জন্যই সম্প্রতি ফ্রান্সে প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যান্ড করে দেওয়া হয়েছে।

৭) শুক্রাণুর গুণাকুণ ও পরিমাণ – বেশ কিছু গবেষক মোবাইলের তরঙ্গের কুফল হিসেবে শুক্রাণুর পরিমাণ ও গুণাগুণের বিষয়টি নিয়ে সচেতন করেছেন। গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন, যাঁরা দীর্ঘক্ষণ পকেটে মোবাইল ফোন রাখেন তাঁদের স্পার্ম কাউন্ট অন্যদের তুলনায় অনেক কম হয়। তাও অনেকটাই খারাপ অবস্থায় থাকে।

কম বা বেশি তরঙ্গের ওপর এটা নির্ভর করে না। তরঙ্গ মাত্রই ক্ষতিকর।

 

৮) বংশবৃদ্ধি – উপরের সমস্যার হাত ধরেই সৃষ্টি হয় বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

মোবাইল ফোন সরাসরি ব্যবহারের বদলে উচিত হেডফোন ব্যবহার করা।
ঘুমের সময় মোবাইল বালিশের নীচে বা পাশের বেডসাইড টেবিলে না রেখে আরও দূরে রাখাই বাঞ্ছনীয়।
মোবাইল শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে না রাখাই ভালো। পকেট, বেল্ট হল্টার বা শরীরের অন্য কোথাও মোবাইল বহন না করে ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত।

Read also:

জেনে নিন,শীতে দাঁত ব্যথা নিরাময়ের ৭টি উপায় !!

দাঁতের ব্যাথাকে আমরা অনেকে আমল দেই না। প্রয়োজনমতো দাঁতের যত্ন নেই না, ডেন্টিস্টের কাছে যাই না নিয়মিত। এর পর যখন দাঁতের ব্যথায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় তখনই কেবল ডেন্টিস্টের কাছে দৌড়াই। কিন্তু দাঁত ব্যথার রয়েছে বড়ই বাজে একটা অভ্যাস।

রাতের বেলায় যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, ডেন্টিস্ট যখন চেম্বার বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছে তখনই দাঁত ব্যথা চরম আকৃতি ধারণ করে। তখন সকাল পর্যন্ত ব্যথা সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না। আর এই শীতে তো দাঁতের ব্যথা বেড়েও যায় অনেক গুণে।

অনেকে পেইনকিলার খেয়ে বসে থাকেন, যদিও পেইনকিলার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। জানেন কি, আপনার রান্নাঘরে পড়ে থাকা কিছু উপাদান দিয়ে আপনি তৈরি করে নিতে পারেন একদম প্রাকৃতিক এবং কার্যকরী কিছু পেইনকিলার। দাঁতে ব্যথা হলে ডেন্টিস্ট দেখাতে হবে অবশ্যই, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই ঘরোয়া ওষুধগুলো কাজ করে জাদুর মতো!

১) লবণ পানি
একেবারে সাধারণ এবং প্রচলিত এই প্রক্রিয়া আসলেই কার্যকর। এক গ্লাস গরম পানিতে বেশি করে লবণ গুলে কুলকুচি করুন যতক্ষণ সম্ভব। দাঁতের ব্যথার কারন হিসেবে যদি কোনও জীবাণু থেকে থাকে তবে তা দূর হবে। এছাড়াও মাড়িতে রক্ত চলাচল ভালো করে দেয় এবং সাময়িকভাবে দাঁত ব্যাথা কমে আসে। তবে এই লবণ পানি খেয়ে ফেলবেন না যেন। কুলকুচি করে ফেলে দেবেন।

২) লবঙ্গ
যে দাঁতটা ব্যথা করছে, তার ওপরে বা পাশে (যেখানে ব্যাথা) একটা লবঙ্গ রেখে দিন। মাড়ি আর দাঁতের মাঝে বা দুই চোয়ালের মাঝে এই লবঙ্গ চেপে রাখতে পারেন যতক্ষণ না ব্যথা চলে যায়। লবঙ্গের তেল ব্যবহার করতে পারেন তবে দুই-এক ফোঁটার বেশি নয়। লবঙ্গ গুঁড়োর সাথে পানি বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও লাগাতে পারেন।

৩) আদা
এক টুকরো আদা কেটে নিন এবং যে দাঁতে ব্যথা করছে সে দাঁত দিয়ে চিবাতে থাকুন। যদি চিবাতে বেশি ব্যথা লাগে তাহলে অন্য পাশের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে যে রস এবং আদার পেস্ট তৈরি হবে সেটা ওই আক্রান্ত দাঁতের কাছে নিয়ে যান। জিহ্বা দিয়ে একটু চেপে রাখুন দাঁতের কাছে। কিছুক্ষণের মাঝেই ব্যথা চলে যাবে।

৪) রসুন
এক কোয়া রসুন থেঁতো করে নিয়ে দাঁতের ওপর লাগিয়ে রাখুন। রসুনের সাথে একটু লবণও মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

৫) পেঁয়াজ

টাটকা এবং রসালো এক টুকরো পেঁয়াজ কেটে নিয়ে সেটা আক্রান্ত দাঁতের ওপর চেপে রাখুন। পেয়াজের রসটা উপকারে আসবে।

৬) মরিচ
হ্যাঁ মরিচ। শুকনো মরিচের গুঁড়ো দিয়ে পেস্ট তৈরি করে দাঁতের ওপরে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে মরিচের ভেতরে থাকা উপাদান আপনার দাঁতের ওই ব্যাথাকে অবশ করে দেবে। গোলমরিচের গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন।

৭) বেকিং সোডা

একটা কটন বাড একটু পানিতে ভিজিয়ে নিন। এর মাথায় অনেকটা বেকিং সোডা লাগিয়ে নিয়ে আক্রান্ত দাঁতের ওপরে প্রয়োগ করুন। আরেক ভাবেও বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়। এক চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস গরম পানিতে গুলিয়ে সেটা দিয়ে কুলকুচি করে ফেলুন।

মনে রাখবেনঃ
আপনার দাঁত ব্যথা করছে তার মানে নিশ্চয়ই দাঁতের ভেতরে কোনো সমস্যা আছে এবং অবশ্যই ডেন্টিস্টের সাহায্য ছাড়া সে সমস্যার থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। ঘরোয়া এই প্রতিকারগুলো আপনাকে কিছুটা সময়ের জন্য ব্যথা থেকে মুক্তি দিচ্ছে বলেই ডাক্তার দেখানোর কথাটা ভুলে যাবেন না যেন। বিশেষ করে যদি মাড়ি ফুলে যায় তবে বুঝতে হবে ইনফেকশন হয়ে গেছে এবং অতি সত্তর ডেন্টিস্টের সাথে দেখা করুন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

[X]