Published On: Sun, Jan 21st, 2018

তালিকা দেখে প্রধানমন্ত্রী অবাক

তালিকা দেখে প্রধানমন্ত্রী অবাক। মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘এত জামাত-বিএনপি আওয়ামী লীগে ঢুকল কীভাবে?’ দলের সাধারণ সম্পাদককে বললেন উপ-কমিটি বন্ধ করতে, আরও যাচাই করে তারপর উপ-কমিটি চূড়ান্ত করতে।

আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সম্পাদকের অধীনে উপ-কমিটি গঠন করে। এই উপকমিটিগুলোর সদস্যরা সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবার যে উপ-কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা ছিল বিএনপি-জমাতের অনুপ্রবেশকারী দিয়ে ভরপুর। এনিয়ে দলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দলের কয়েকজন পোড়খাওয়া ত্যাগী কর্মী প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতির কাছে উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক মনোনয়ন নিয়ে অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর সম্পাদকের কাছে উপকমিটির তালিকা চেয়ে পাঠান। তালিকার নামগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নিজে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যান।

 

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো জানাচ্ছে উপ-কমিটিতে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের একটি বিরাট অংশই জামাত-বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগে) আহমেদ হোসেনের উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মনোনয়ন পান রাজবাড়ী ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহমুদুর আসাদ রয়েল, একই উপ-কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ইতালি বিএনপির নেতা আমান উল্লাহ আমান। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উপকমিটিতে সহসম্পাদক সেলিম রেজা সুইট পাবনা জেলা ছাত্রদলের নেতা। ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিদুল হাসান চৌধুরী নওফেলের উপকমিটির সহসম্পাদক এইচএম মিজানুর রহমান ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতা। দপ্তর উপকমিটির সহসম্পাদক মনোনীত অ্যডভোকেট ফয়সাল আহমেদ রিয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা। একই কমিটিতে আছেন কে.এম কবির হোসেন যিনি ঢাকা কলেজের ক্যাডার ছিলেন। সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা সঙ্গীত শিল্পী এসডি রুবেলের নাম। এই তালিকায় অনেক ত্যাগী এবং পরীক্ষিত কর্মীদের নাম নেই।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই তালিকা দেখে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী অনতিবিলম্বে যাচাই বাছাই করে নতুন করে উপকমিটি গঠনের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন।.

গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগে জামাত-বিএনপির অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী এসব অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। সদস্য নবায়নের সময়ও অনেক জামাত-বিএনপি চিহ্নিত হয়েছিল।

Read also:

সেনা অভিযান শেষ, হোটেলের ভিতর ছড়িয়ে মৃতদেহ

শেষ হল অভিযান৷ ১২ ঘণ্টার লাগাতার গুলি বিনিময়ের পর অবশেষে খতম করা হয়েছে বন্দুকধারীদের৷ সেনা অভিযান শেষ, হোটেলের ভিতর ছড়িয়ে মৃতদেহ। সন্ত্রাস কবলিত আফগান রাজধানীতে আরও একটা রক্তাক্ত সকাল৷

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া হমালায় নিহতের সংখ্যা ৫ জন৷ তবে হোটেলের ভিতরের পরিস্থিতি সঠিক জানা যায়নি৷ মৃতের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷ কিছু বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের খবর, পাঁচ জনের অধিক মৃত্যু হয়েছে৷

বিবিসি জানাচ্ছে, অভিজাত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আর কোনও বন্দুকধারী লুকিয়ে নেই৷ দেড়শ আবাসিককে উদ্ধার করা হয়েছে৷ এদের অনেকেই ভিনদেশি৷ হামলার দায় কোনও জঙ্গি সংগঠন নেয়নি৷ তবে সন্দেহের তির সেই তালিবানদের দিকেই, কারণ ২০১১ সালে এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলেই তারা হামলা চালিয়েছিলে৷ সেই হামলায় সবমিলে ২১ জনের মৃত্যু হয়৷

 

কী পরিস্থিতি কাবুলের ?

এএফপি, এপি, রয়টার্স ও একাধিক সংবাদ মাধ্যমের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিখ্যাত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া৷ অনেক দূর থেকে সেই ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছেন কাবুলবাসী৷ হোটেলের চারিদিকে আফগান সেনার ঘেরাটোপ৷ তার বাইরে উদ্বিগ্ন জনতার ভিড়৷

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ কাবুলের বাগ-এ-বালা এলাকার এই হোটেলে কয়েকজন যুবক আচমকা ঢুকে পড়ে৷ এরপরেই তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে৷ প্রাথমিকভাবে তাদের গুলিতে মৃত্যু হয় নিরাপত্তারক্ষীদের৷ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ এদিক ওদিক সকলেই ছুটতে শুরু করেন৷

তারই মধ্যে বন্দুকবাজদের কয়েকজন হোটেলের দু’তলায় উঠে যায়৷ সেখানেও এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়৷ এছাড়া হোটেলের একটি তলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ রাতভর গুলির লড়াইয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল৷ অনেক দূর থেক আগুনের শিখা দেখতে পেয়েছেন কাবুলবাসী৷

রবিবার সকালেও গুলির লড়াই চলেছে৷ একসময় দেখা যায় প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন আবাসিক ছ’তলা হোটেলের জানালা দিয়ে কয়েকজন ঝুলে ঝুলে নামছেন৷ তাদের উদ্ধার করা হয়৷ বেলা বাড়তেই আফগান গুলির লডা়ই তীব্র হয়৷ কিছু পরে আফগান সরকার জানিয়ে দেয় বন্দুকধারীরা খতম৷

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

[X]