Published On: Sun, Jun 24th, 2018

আদা-জল খেয়ে লেগে পড়ার কথা বলা হয়, খেলে কিন্তু সত্যিই ম্যাজিক!

শুধুমাত্র রান্নায় মশলা হিসাবে নয়, প্রাচীন কাল থেকে আয়ুর্বেদে আদার রসকে বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথেও আদার নানা ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর অন্যতম কারণ আদার রসের উপসম ক্ষমতা। আদায় পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল থাকে। প্রতি দিন এক গ্লাস আদা দিয়ে ফোটানো জল খেলে শরীর থেকে নানা রোগ বিদায় নেবে এবং সুস্থ জীবন যাপন করতে সাহায্য করবে। দেখে নিন এর কী কী উপকারিতা রয়েছে। ১) হজমশক্তি বাড়ায়: সকাল বেলায় খালি পেটে এক গ্লাস আদা দিয়ে ফোটানো জল খেলে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অম্বলের সমস্যা, গা বমি ভাবে এবং গ্যাসের মতো সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয়। এক চামচ পুদিনার রস, এক চামচ লেবুর রস এবং দুই চামচ মধু এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস দূর করতে সাহায্য করে। ২) কিডনি বাঁচায়, ডায়াবেটিস দূরে রাখে: প্রতি দিন এক গ্লাস আদার জলের সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কিডনিতে সুরক্ষাবলয় তৈরি করে। আদায় উপস্থিত জিঙ্ক শরীরে ইনসুলিন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

৩) ওজন কমায়: রক্তে উচ্চমাত্রায় শর্করার উপস্থিতি খাবার ইচ্ছে বাড়িয়ে তোলে। ফলে দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে। আদার জল রক্তে ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাবার ইচ্ছেও নিয়ন্ত্রণ করে। খাবারে অতিরিক্ত ফ্যাট শুষে নিতে সাহায্য করে। ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ৪) সুস্থ চুল এবং ত্বক: আধায় প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস থাকে। সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভিটামিন থাকে। যা আপনার ত্বকে একটা স্বাভাবিক জেল্লা নিয়ে আসে। ভিটামিন A এবং C আপনার চুলও সুস্থ রাখে। আদা রক্ত পরিষ্কার করে। ফলে চর্মরোগ দূরে থাকে। ৫) অ্যালঝাইমার্সের সম্ভাবনা কমায়: অ্যালঝাইমার্স এক ধরনের রোগ যা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে আঘাত করে। গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, আদা মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস এবং অন্যান্য শক্তিশালী কমপাউন্ড মস্তিষ্কে ইনফ্ল্যামেটরি রেসপন্সের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ব্রেন সতেজ থাকে। স্মৃতিশক্তিও ধরে রাখতে সাহায্য করে। ৬) পেশি মেরামত করে: কাজ করার সময় বা বিশেষত ব্যায়াম করার সময় পেশি অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। আদার জল এই সব পেশিকে মেরামত করে দ্রুত আরাম দেয়। পুনশ্চ: এক লিটার জলে এক ইঞ্চি মতো এক টুকরো আদা কুঁচি করে কেটে মেশান। একটি পাত্রে জল নিয়ে তা ফুটতে দিন। এর পর আদার টুকরো দিয়ে আঁচ বন্ধ করে দিন। ১০ মিনিট রেখে ছেঁকে পাত্রে তুলে রাখুন। তৈরি আপনার আদার জল। যদি একবারে বেশি করে বানাতে চান তবে অনুপাত অনুযায়ী আদা ও জলের পরিমান বাড়িয়ে নিতে পারেন।

Read also:

যারা সকাল বেলায় লেবুজল পান করেন, জেনে নিন তার ফলাফল কতটা মারাত্মক হতে পারে…

লেবুজল পান করেন- অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা লেবুজল পান করার সময় চোখ মুখ কুঁচকে এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে থাকি। যদিও আমরা প্রায় সকলেই বিশ্বাস করি সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস লেবু জল পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ভালো।লেবুর রস গরম জলের সাথে মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সকালে এক গ্লাস খেলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়তা করে ।কোন সন্দেহ নেই এটি একটি অবাক করা পদ্ধতি যা সাম্প্রতিক আবিস্কৃত হয়েছে। এই পদ্ধতির গুণাবলীও বহুবিধ কিন্তু এই মিশ্রণ প্রস্তুতিকরনের ক্ষেত্রে একটি ভুল পন্থা অবলম্বন করা হয়ে থাকে।আপনিও সাবধান হোন, পরের বার এই মিশ্রণ তৈরির ক্ষেত্রে যাতে কোন ভুলচুক না হয়।সঠিক মিশ্রণ সেবন করুন ও উপকার পান ।সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু জল পান করা আমাদের শরীরের বহুবিধ উপকার সাধনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে সহায়তা করে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের মেদ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই পানীয়টি ঠান্ডা লাগা, জ্বর ও সর্দি কাশির হাত থেকেও আমাদের প্রতিরোধ করে।এই লেবুর জুস আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ভিটামিনের জোগান দেয় এবং এর ফলে আমাদের স্বাস্থের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে ।তাই তো আমরা বলি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবু জল পান করুন কিন্তু তা তৈরি করার পদ্ধতি যেন সঠিক হয় ।ছবিতে দেখানো লেবু জল প্রস্তুতের পদ্ধতিটি ভুল আছে কারন এর মধ্যে লেমন পিল ব্যবহার করা হয়নি ।লেবুর টুকরো বা পিল পুরো ফলের সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশ তাই এটি ব্যবহার করুন।লেবুটিকে পিস পিস করে কাটুন এরপর সেগুলির রস বের করে জলের সাথে মিশিয়ে নিন, এছাড়াও রস বেরোনোর পরে লেবুর একটি থকথকে অংশ থাকে সেটিকেও লেবুর জলের সাথে মিশিয়ে দিন। মিশ্রণের জল যেন গরম হয়। এরপর ওই মিশ্রণ সেবন করুন ।তাই বলি সঠিক পদ্ধতিতে এই পানীয়টি প্রস্তুত করুন এবং তার উপকারিতা পান ॥

[X]